রুম নম্বর ১৩ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প Thirteen (পর্বঃ ২)

 দরজা খুলতেই আমি ঘাবড়ে গেলাম ৷ আতঙ্কে কেঁপে উঠলো কলিজা ৷ যা দেখলাম সেটা কি আদৌ সম্ভব? অনিতা আমার সামনে জীবিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ৷ দরজাটা তাহলে সেই খুলেছে! কম্পমান দেহ নিয়ে থম মেরে দাঁড়িয়ে রইলাম, আর কাঁপা চোখে অনিতাকে দেখতে লাগলাম ৷ মনে হচ্ছে আমি অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পরবো ৷ দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছিনা ৷ অকস্মাৎ, অনিতা গম্ভীর গলায় বললো,



-আপনি কে?
ভ্রু কুঁচকে গেলো আমার ৷ এমনিতে আতঙ্কের মধ্যে আছি ৷ অনিতা আমাকে চিনতে পারছেনা এটা নতুন করে ভাবনার মধ্যে ফেলে দিলো ৷ নিচুস্বরে জবাব দিলাম,
-অনিতা, তুমি আমাকে চিনতে পারছোনা? আমি অর্ণব! তোমার বয়ফ্রেন্ড!
মেয়েটি গরম চোখে তাকিয়ে রাগান্বিত গলায় বললো,
-পাগল নাকি আপনি? পাগলের মত কথা বলছেন, আপনি কেন আমার বয়ফ্রেন্ড হতে যাবেন? আমার কখনো কোনো বয়ফ্রেন্ড ছিলোনা!
অনিতা দরজাটা বন্ধ করে দিলো ৷ তাই কড়া নাড়লাম দরজায় ৷ কিন্তু সে আর দরজা খুললোনা ৷ মাথাটা ঘুরে গেলো ৷ প্রচন্ড ব্যথা করতে লাগলো, চিনচিনও করছে ৷ অনিতা আমাকে চিনতে পারলোনা কেন? তারচেয়ে বড় কথা সে তো তার রুমে মৃত লাশ হয়ে পরে ছিলো ৷ জীবিত হয়ে এই রুমে এলো কি করে? এসব কি ঘটছে? আর এই রুমে তো দুজন মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ হয়ে পরে ছিলো, তারা বা কই গেলো? এসবের মানে কি? কোন চক্রের মধ্যে ডুবে গেলাম আমি? ১৩নম্বর রুমটিতে উঁকি দিতে হবে ৷ ১৩ নম্বর রুম তথা অনিতার রুমের সামনে গেলাম ৷ রুমের ভেতরে চোখ যেতেই নতুন করে আতঙ্কিত হলাম ৷ অনিতা ও সেই ছেলেটি লাশ হয়ে পরে আছে ৷ রক্তের বন্যা দৃশ্যমান ৷ এর মানে অনিতা সত্যিই মারা গেছে! তাহলে ঐ রুমে হুবহু অনিতার মত দেখতে যাকে দেখলাম, সে কে? নিশ্চয় অনিতার Doppelganger হবে ৷ এটা না হলে অনিতা অবশ্যই আমাকে চিনতো ৷ আর তাছাড়া অনিতা তো লাশ হয়ে পরে আছে ৷ তাই ওটা কিছুতেই অনিতা হতে পারেনা, বরং সে অনিতার Doppelganger! মানে জমজ নয়, কিন্তু একই রকম দেখতে ৷ ভাবতে ভাবতে ঘাবড়ানো অভিব্যক্তি নিয়ে নিজের রুমের দিকে চললাম ৷ রুমে ঢুকে তাড়াহুরো করে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম ৷ রুম অন্ধকার ৷ লাইট বন্ধ আছে ৷ সুইচবোর্ডের নিকট যাবো, এরপূর্বে ঘরটা আলোয় আলোয় পরিপূর্ণ হয়ে গেলো ৷ চমকে উঠলাম এভাবে ধুম করে ঘরে লাইট জ্বলে ওঠায় ৷ সুইচবোর্ডের দিকে নজর পরতেই বড়সর ধাক্কা খেলাম ৷ অনিতার মত দেখতে সেই মেয়েটি সুইচবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৷ আশ্চর্য! তাকে তো একটু আগে ঐ রুমে দেখে এলাম ৷ তাহলে এখানে তাকে দেখতে পাচ্ছি কি করে? আমার আগেই সে রুমে এলো কিভাবে? একটাই বারান্দা, এই বারান্দা দিয়ে সে এই রুমে আসতে পারবে ৷ এই রুমে আসার সময় তো বারান্দায় তার সঙ্গে দেখা হবার কথা ছিলো, কই দেখা তো হলোনা? নিশ্চয় আমি কোনো গোলক ধাঁধার মধ্যে পরে গেছি ৷ যার রহস্য উন্মোচিত হচ্ছেনা ৷ মনে হচ্ছে অনিতার মত দেখতে এই মেয়েটি জাদু জানে ৷ মেয়েটিকে তীক্ষ্ণকন্ঠে বললাম,
-তুমি আমার রুমে এলে কেন?
মেয়েটি নিচুস্বরে জবাব দিলো,
-আমি আসতে পারিনা?
-তুমি তো আমাকে চিনোনা, অপরিচিতজনের রুমে কেন আসবে?
-পাগল নাকি? তুমি আমার অপরিচিতজন হতে যাবে কেন? ২ বছরের প্রেমের সম্পর্ক আমাদের, অথচ বলছো অপরিচিত ৷ কি বলো এসব?
-আরে তুমিই না তখন বললে আমাকে তুমি চিনোনা ৷
-কই? কখন বললাম? তোমার মাথা কি ঠিক আছে?

মেয়েটির কথা শুনে আমি গভীর চিন্তায় পরে গেলাম ৷ সে তো দেখি অনিতার মত করে কথা বলছে ৷ তারমানে সে কি সত্যিই অনিতা? যদি অনিতা হয়ে থাকে, তাহলে যাকে মৃত অবস্থায় দেখলাম সে কে তাহলে? নাহ, মাথা নতুন করে গুলিয়ে যাচ্ছে ৷ অনিতা আমার নিকটে এসে শীতল কন্ঠস্বরে বললো,
-ঘুমাবেনা তুমি? আমার কিন্তু ঘুমে প্রকটে চোখের পাতা বুজে আসছে!
অস্বস্তি লাগছে ৷ কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে জবাব দিলাম,
-আমার চোখে ঘুম নেই ৷ তুমি রুম থেকে চলে যাও ৷ একা থাকতে দাও আমাকে!,
-বেডে চলো ৷ তোমার চোখে ঘুম নেই তো কি হয়েছে, আমি ঘুম এনে দিবো ৷
-আমার এমনিতেই ভালো লাগছেনা কিছু, তুমি যাও তো!
.
মেয়েটি আমার ডান হাতটা শক্ত করে ধরার পর ধাক্কা মেরে বেডে শুয়ে দিলো ৷ এরপর কপালে হাত রেখে মোলায়েম কন্ঠস্বরে বললো,
-ঘুমিয়ে পরো, আমি তোমার পাশেই আছি!
আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে তার হাত কপালে পরতেই আমার ভেতর থেকে অস্বস্তি ও আতঙ্কের ভাবটা কেটে গেলো ৷ শরীরটা হালকা হয়ে গেলো ৷ প্রশান্তির ছোঁয়া আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেললো ৷ মুহূর্তের মধ্যে ঘুম ঘুম ভাব চলে এলো ৷ একপর্যায়ে ঘুমিয়ে গেলাম আমি!
.
.

চমৎকার একটি স্বপ্ন দেখছিলাম ৷ অপ্রত্যাশিতভাবে স্বপ্নটি ভেঙ্গে গেলো ৷ ঘুম ভাঙ্গতে চাপা কষ্ট অনুভূত হলো ৷ এতো সুন্দর স্বপ্ন দেখছিলাম, অথচ ভেঙ্গে গেলো; স্বপ্নটা পুরোপুরি দেখতে পারলে ভালো হতো ৷ কিঞ্চিৎ বিরক্ত ভাব নিয়ে বিছানা থেকে নেমে এলাম ৷ মনটা স্বপ্নের মাঝে আবদ্ধ হয়ে রইলো ৷ স্বপ্নটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে ধীর পায়ে রুম থেকে বের হয়ে এলাম ৷ কেন যেনো হাঁটতে ইচ্ছা করছে আমার ৷ হাঁটতে হাঁটতে একপর্যায়ে একটি রুমের নিকটে থেমে গেলাম ৷ সামনের দিকে নজর পরলো ৷ অনেকগুলো পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে ৷ তাদের আশেপাশে লোকজনের সমাগম ৷ কেউই উচ্চস্বরে কথা বলছেনা ৷ পুলিশ এখানে কেন এলো এটার কারণ খুঁজে পেলাম না ৷ হঠাৎ, মাথায় প্রচন্ড ব্যথা শুরু হলো ৷ আবছা আবছা কি যেনো মনে পরতে লাগলো আমার ৷ রাত্রীতে কারো রুমের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম আমি,এবং কেউ একজন আমার রুমে এসেছিলো— এতটুকু মাথায় আসছে ৷ কিন্তু নিশ্চিত হতে পারছিনা যে সত্যিই এমনকিছু ঘটেছিলো কি না!
পুলিশের নিকটে গেলাম ৷ কয়েকটা কনস্টেবল আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকালো ৷ তাদের এমন দৃষ্টি বিনিময়ের ঠিক অর্থ খুঁজে পেলাম না ৷ ১৩ নম্বর রুমের ভেতরে চোখ পরলো আমার ৷ কাপড় দিয়ে একটি মেয়ের লাশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে ৷ চেহারাটা ঠিকভাবে দেখতে পাচ্ছিনা ৷ এই রুমটা তো আমার গার্লফ্রেন্ড ভাড়া নিয়েছিলো ৷ তার সাথে একটা ছেলে ছিলো ৷ ঐ তো ঐ যে ছেলেটি, বেডে মাথা নিচু করে বসে আছে ৷ লাশের নিকটে গেলাম ৷ চেহারা স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়ে বড়সর আঘাত পেলাম ৷ অনিতা লাশ হয়ে পরে আছে ৷ মুহূর্তের মধ্যে বুকের ভেতরে দুঃখের অনল জ্বলজ্বল করে জ্বলা শুরু করলো, আর আমি পুড়ে ছাই হতে লাগলাম ৷ নিশ্চয় ঐ ছেলেটি অনিতাকে খুন করেছে ৷ একজন পুলিশ আমাকে লাশের নিকট থেকে সরে আসতে বললো ৷ তার নাম এসআই কামাল খন্দকার ৷ ইউনিফর্মের গ্রিন-ব্যাচের উপরে তার পদবী ও নাম লিখা আছে ৷ বুঝতে পারছি সে এই কেসের ইনভেস্টিগেশন করতে এসেছে ৷ আমি চেঁচিয়ে এসআই কে বললাম,
-আমি এই খুনের আসামীকে চিনি! আপনি চাইলে আমার হেল্প নিতে পারেন ৷
আচমকা, একটি মেয়ে আমার হাত ধরে টেনে পুলিশের নিকট থেকে নিয়ে গেলো ৷ মেয়েটির পরনে বোরখা, আর মুখ ওড়না দিয়ে সুন্দর করে ঢাকা আছে ৷ বুঝলাম না মেয়েটি কে? সে এসআইকে বললো,
-দুঃখিত স্যার, সে উল্টাপাল্টা বলছে ৷ তার কথা সিরিয়াসলি নিবেন না ৷ তার মাথায় একটু সমস্যা আছে!
.
এসআই মেয়েটিকে থামিয়ে দিলো ৷ এবং তীক্ষ্ণকন্ঠে বললো,
-আপনি কে? আর এই লোকটি বা কে?
মেয়েটি জবাবে বললো,

মন্তব্যসমূহ