রুম নম্বর ১৩ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প Thirteen (পর্বঃ ১)

একটি অভিজাত হোটেলে এসেছি একজনের সঙ্গে দেখা করতে ৷ কিন্তু হোটেলে আসার পরপরই জানতে পারলাম সে আজ আসবেনা, কাল সকালে আসবে ৷ এজন্য বাধ্য হয়ে একটা রুম নিতে হলো ৷ বাসায় ফিরে না গিয়ে এখানেই রাতটা কাটিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলাম ৷ চাবি নিয়ে চললাম রুমের দিকে ৷ আমার রুমের নম্বর ৩১! রুমে ঢুকলাম ৷ কিছুসময় অবস্থান করলাম রুমে ৷ এরপর রুম থেকে বের হয়ে এলাম ৷ হোটেলের মূল বারান্দায় দাঁড়াতেই লক্ষ্য করলাম আমার গার্লফ্রেন্ড অনিতা একটি ছেলের হাত ধরে কোনো এক রুমের দিকে যাচ্ছে ৷ চমকে গেলাম অনিতাকে দেখে ৷ তাকে এখানে দেখতে পাবো ভাবিনি ৷ তবে কেন যেনো সন্দেহ হলো তাকে অন্য একজনের সঙ্গে দেখে ৷ ছেলেটা যে অনিতার পরিবারের ও আত্মীয়-স্বজনের কেউ নয় এটা বুঝতে পারছি-কারণ অনিতার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সকলকে আমার চেনা ৷ তাহলে ছেলেটা কে? প্রশ্ন জাগলো মনে যে অনিতা কিসের জন্য এই হোটেলে এলো? তীব্র কৌতূহল নিয়ে অনিতার পিছু নিলাম ৷ কিছুক্ষণ হাঁটার পর লক্ষ্য করলাম অনিতা ছেলেটিকে নিয়ে একটি রুমের ভেতরে প্রবেশ করলো ৷ দ্রুততার সহিত রুমের দরজার নিকটে গেলাম ৷ দরজায় কড়া নাড়লাম কিন্তু কেউই দরজা খুললোনা ৷ দরজার উপরে মোটা অক্ষরে রুমের নম্বর লেখা আছে ৷ রুম নম্বর ১৩! অনবরত দরজায় কড়া নাড়তেই থাকলাম কিন্তু কোনো লাভ হলোনা ৷ দরজা খুলছেনা ৷ রাগ হলো অনিতার উপর ৷ নিশ্চয় সে ছেলেটার সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে ৷ ঘৃণা জন্ম নিলো অনিতার প্রতি ৷ ফোন দিতে হবে তাকে ৷ এখন রিসিভ করলে হয় ৷ ফোন করলাম ৷ রিং হচ্ছে ৷ রিং হতেই থাকলো ৷ কিন্তু ফোন রিসিভ করছেনা ৷ নট রেসপন্ড লিখা উঠে কল কেটে গেলো ৷ প্রচন্ড রাগ সত্বেও আরো কয়েকবার ফোন দিলাম, কিন্তু একবারও ফোন রিসিভ করলোনা ৷ রাগে দুঃখে আমার মাথায় আগুন ধরে গেলো ৷ মাথায় রক্ত উঠে ফুটন্ত জলের মত করে ফুটতে লাগলো ৷ মন চাচ্ছিলো রুমের দরজা ভেঙ্গে ফেলি ৷ এবং রুমের ভেতরে ঢুকে অনিতাকে শায়েস্তা করি ৷ কিন্তু তেমনটা করার সুযোগ হলোনা ৷ হোটেলের ম্যানেজার এসে আমাকে জিজ্ঞেসা করলো,






-এখানে কি চান? আপনার রুম তো ঐদিকে!
আমি কোনো জবাব না দিয়ে অনিতার রুমের সামনে থেকে চলে এলাম!
আমার রুমে এলাম ৷ তীব্র রাগ নিয়ে চিন্তা করতে লাগলাম কিভাবে বিশ্বাসঘাতককে শাস্তি দেওয়া যায়? এমন একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছি ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে ৷ একটুও ভালোলাগছেনা আমার ৷ মন চাচ্ছে নিজের শরীরের চামড়া নিজেই চিরে ফেলি ৷ রাগ এতোটাই চরমে উঠেছে যে অনিতাকে খুন করতে পারলে অন্তরাত্মা শান্ত হতো!

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘন্টা লেগে গেলো ৷ সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের আগমণ ঘটলো ৷ নৈশভোজ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম ৷ ভাবলাম আবারো অনিতাকে ফোন দিবো ৷ ভাবনা অনুযায়ী ফোন দিলাম ৷ কিন্তু অনিতা ফোন বন্ধ করে রেখেছে ৷ নতুন করে রাগের সৃষ্টি হলো ৷ রুম থেকে বেরিয়ে এলাম ৷ অনিতার রুমের নিকটে গিয়ে দাঁড়ালাম ৷ দরজায় কড়া নাড়লাম আর অনিতার নাম ধরে ডাকতে লাগলাম ৷ কিন্তু এবারো কোনো সাড়া পেলাম না ৷ জ্বলন্ত রাগ নিয়ে আবারো নিজের রুমে চলে এলাম ৷ মনের রাগ মনে তে রেখে বিছানায় নিজেকে সপে দিয়ে ঘুমের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণতে লাগলাম ৷ একপর্যায়ে ঘুমের জগতে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম ৷ অকস্মাৎ, ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো বিকট চিৎকারে ৷ ঘুম ভাঙ্গতেই লোকজনের শোরগোল ও চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলাম স্পষ্টভাবে ৷ উদ্ভ্রান্তের মত হয়ে গেলাম ৷ কিছু ঠাওর করতে পারলাম না ৷ তীব্র কৌতূহল নিয়ে রুম থেকে বের হলাম ৷ জানতে হবে এভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করছে কারা? কিসের জন্য? রুম থেকে বের হতেই বুঝতে পারলাম অনিতার রুম থেকে চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ আসছে ৷ চললাম সেদিকে ৷ অনিতার রুমের নিকটে গিয়ে এবারো তার রুমের দরজা বন্ধ অবস্থায় পেলাম ৷ চোখ গেলো পাশের রুমের দিকে ৷ সেদিকে কান্না ও চিৎকারের আওয়াজ ভেসে আসছে ৷ পাশের রুমের দরজা খোলা রয়েছে ৷ দরজার সামনে দাঁড়ালাম ৷ চোখ পরলো ফ্লোরের উপর ৷ আঁতকে উঠলাম ৷ পুরো শরীর অস্বাভাবিকভাবে কেঁপে উঠলো ৷ এমন কিছু দেখতে হবে ভাবনাতে ছিলোনা ৷ দুজন মানুষ লাশ হয়ে পরে আছে ৷ একজন মেয়ে আরেকজন ছেলে ৷ তারা কিশোর বয়সী ৷ দুজনের রক্ত দিয়ে ফ্লোরের চারপাশ ভিজে জবজব করছে ৷ তাদের ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখে শিউরে উঠছে আমার শরীর ও রক্তকণিকা ৷ তারা দুজনে একেঅপরের অস্ত্রের মাধ্যমে জীবন দিয়েছে ৷ এটা আত্মহত্যা, মোটেও খুন হতে পারেনা ৷ কারণ, মেয়েটির হাতের ধারালো চাকু ছেলেটির বুক বরাবর বিদ্ধ, আর ছেলেটির হাতের রিভলবার মেয়েটির বুক বরাবর তাক করা আছে ৷ এটা নিশ্চয় তাদের প্ল্যান মোতাবেক হয়েছে ৷ আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হবে এটা! কিন্তু এরা আত্মহত্যা কেন করতে গেলো?




রুমের সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছা হলোনা আর ৷ ভয় লাগছে ৷ গা কাঁপছে থরথর করে ৷ আমাকে নিজের রুমের দিকে যেতে হবে ৷ পা বাড়ালাম ৷ কিন্তু অনিতার রুমের ভেতরে আমার চোখদ্বয় আটকে গেলো ৷ দরজা খোলা আছে ৷ এমন দৃশ্য দেখলাম যা দেখে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো ৷ এমন কিছু ঘটতে পারে কখনো কল্পনাতে ছিলোনা আমার ৷ পাশের রুমে যেমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেছি, অনিতার রুমের ভেতরেও ঠিক সেরকম দৃশ্যই দেখতে পাচ্ছি আমি ৷ হ্যাঁ, অনিতা মৃত অবস্থায় লাশ হয়ে পরে আছে ৷ তার সাথের ছেলেটিও ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত দেহ নিয়ে পরে আছে ৷ অনিতার চাকুর আঘাতে ছেলেটার বুক রক্ত দিয়ে জর্জরিত হয়ে আছে ৷ আর অনিতার বুক রিভলবারের বুলেটে ছারখার ৷ রক্তের বন্যায় ফ্লোর একাকার ৷ আমার মাথা ভনভন করে ঘুরছে ৷ আচমকা, মনে পরলো এখানে থাকা ঠিক হবেনা ৷ পুলিশ এলে আমাকে সন্দেহ করতে পারে ৷ রুমের সামনে থেকে সরে যাবো, এরপূর্বে পাশের রুমের দিকে চোখ পরলো আমার ৷ আশ্চর্য! ঐ রুমের দরজা একটু আগে খোলা ছিলো, মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ করলো কে? রুমের নিকটে দাঁড়ালাম ৷ ভয়ার্ত মন নিয়ে দরজায় কড়া নাড়লাম ৷ কয়েকবার দরজায় কড়া নাড়তেই দরজাটা কেউ একজন খুলে দিলো ৷ দরজা খুলতেই আমি ঘাবড়ে গেলাম ৷ আতঙ্কে কেঁপে উঠলো কলিজা ৷ যা দেখলাম সেটা কি আদৌ সম্ভব?

মন্তব্যসমূহ