- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
সবাই আমাকে থাপ্পড় মারতে থাকলো, আমি বুঝে উঠতে পারছিনা কেন আমায় মারছে, আর আমি কোনোকিছু জিজ্ঞাসা না করে বসে আছি শুধু। এবার আমাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হলো, আরে এটা তো সেইই হসপিটাল যেটা দুপুরে রিতা আমায় ফোন দিয়ে বলেছিলো, তাহলে এরা তিশার জন্য আমায় তুলে এনেছে, এবার একটা লোক আমার গাড় ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেলো ভিতরে, আমি ভিতর এ যেতেই একজন মহিলা আমার পা ধরতে এলো, আমি আমার পা না ধরতে দিয়ে....
-- একি আপনারা কে? আর আপনি কে আন্টি?(আমি)
-- বাবা আমি তিশার আম্মু।
এবার আমার খুব ভয় করছে, তিশা অন্যকিছু করে ফেলেনি তো, এবার আমার চোখে মুখে শুধু ভয়ের লক্ষন।
-- আন্টি তিশা কোথায় আর কি হয়েছে ওর।
-- তিশা এখন বেডে আছে।
-- কি হয়েছিলো একটু খুলে বলুন তো?
-- তিশা কোথা থেকে যেন ১১.৩০ সময় বাসায় ফিরলো, কোনোকিছু কথা না বলে রুমের মধ্যে চলে গেলো, ১টা বাজার সময় আমি ওর রুমে গিয়ে নক করলাম কিন্তু ওর কোনো সাড়া পেলাম না আমি আবার করলাম, এভাবে দশ থেকে বারোবার করার পর কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের বাসার লোকদের ডেকে দরজা ভেঙে দেখি তিশা মাটিতে পড়ে আছে, আর মুখ দিয়ে ফেনা কাটছে, তারপরে জানলাম, তোমাকে ও ভালোবাসে কিন্তু তুমি ওকে বাসো না। এটা কি ঠিক বাবা আমাদের একটাই মেয়ে, ওর কিছু হয়ে গেলে আমরা কি নিয়ে বাঁচবো বলো তো।
এটা বলে কাঁদতে থাকলো, হুম কিছুটা কষ্ট হলো কারন একজন মায়ের বুকের ব্যথা শুধুমাত্র মায়ই জানে যে সন্তানের জন্য তার হৃদয় কতখানি কষ্ট পাই।
-- বুঝলাম আন্টি, কিন্তু আমি আপনাদের মেয়েকে কখনো গ্রহন করতে পারবো না।
-- কেন?
-- আন্টি আমার বাসা কোনো এক গ্রামে, আমি একজন গেঁয়ো ছেলে, আমি সবুজকে ভালোবাসি আর আপনাদের মেয়ের পছন্দ পার্টি ডিস্কো এসব।
-- তাতে কি হয়েছে গ্রামের মানুষরা কি মানুষ না নাকি!
-- আন্টি সবথেকে দুর্ভাগ্যের বিষয় যে আমাদের সংসারের যে হাল তাতে নুন আনতে পান্তা ফুরাই। আমি আপনার মেয়ের যোগ্য ছেলে না।
-- ও সমাজের সাথে মিলিয়ে নেবে।
-- আন্টি একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না, আপনি তো আমার আম্মুর মতো তাই আম্মুর সামনে কোনোকিছু গোপন করতে নেই।
-- জ্বি বলো বাবা।
-- আপনাদের মেয়ে বড়োই অহংকারী, তিশার লাইফস্টাইল আলাদা।
তিশার আম্মু কি যেন আমাকে দেখাচ্ছে আঙুল তুলে....
-- ডাকছে,
আমি পিছন ফিরতেই দেখি তিশা আমাকে ডাকছে।
-- না আন্টি সম্ভব না যাওয়া।
-- প্লিজ বাবা একবার দেখা তো করে যাও।
-- না আন্টি।
আমি কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে চলে এলাম বাসায়, আমি যদি ওর সামনে যেতাম ওর পাগলামি চরম সীমায় পৌছে যেতো আর আমি রাগ না সামাল দিতে পেরে উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলতাম তাই আগে ভাগে চলে এলাম। আজও টিউশন করা হলো না। দূর ভালো লাগে না। মোবাইলে লো ব্যাটারি তাই চাচার দোকানে চার্জে বসিয়ে দোকানে একটা বই বের করে পড়তে থাকলাম। রাতে এবার ছাদে উঠে হাল্কা বয়ে যাওয়া বাতাসে মজা নিতে থাকলাম, হঠাৎ ফোন এলো, দেখি আম্মু ফোন দিসে......
-- জ্বি আম্মু বলো....(আমি)
-- কাল বাসায় চলে আয়।
-- কেন আম্মু?
-- আসলেই জানতে পারবি।
-- আচ্ছা আম্মু।
সকালে এবার বাসার দিকে রওনা দিলাম, বাসার সামনে গিয়ে দেখি অনেক গুলা বড়ো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু আমাদের গ্রামে তো শুধু মহেশ কাকার গাড়ি আছে, হয়তো মহেশ কাকার আত্মীয়স্বজন হবে হয়তো। আমি আর কিছু না ভেবে আমার বাসায় মাথা নিঁচু করে ঢুকে গেলাম কারন আমাদের খড়ের চালির বাসা, অনেক নিচু তাই মাথা নামিয়ে ঢুকতে হয়, বলেছিলাম না খুব ছোট্টো পরিবার আমাদের।
আমি এবার বাসার ভিতরে যেতেই দেখি অনেক গুলা লোক ও তাদের মাঝে তিশা, আমি তো দেখেই আগুন, আমি আম্মুকে চুপিচুপি ডেকে.....
-- আম্মু এসব হচ্ছেটা কি?(আমি)
-- কি আবার দেখতে পাচ্ছিস না, তোর বিয়ের কথাবার্তা চলছে।
-- আমার বিয়ে
কথাটা শুনেই আমার মাথায় ভূত চেপে লাফাচ্ছে।
-- জ্বি তোর বিয়ে।
-- আম্মু তুমি তো জানো আমি বড়োলোকদের সহ্য করতে পারিনা।
-- ছাড় না বাবা, আমি চাই তুই সুখে থাক। আর মেয়েটা তো তোকে অনেক ভালোবাসে তাই না।
-- তবুও আম্মু আমার এ বিয়ে করা সম্ভব না।
-- তুই কি চাস এখানে এখনি এভাবে বিয়েটা হয়ে যাক,
-- মানে কি এসবের।
-- চুপ থাক তাহলে।
-- আম্মু প্লিজ আমি এই বিয়ে করতে পারবো না। ওই মেয়ে আমাদের সমাজে বসবাস করতে পারবে না।
-- তো তুই ওকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাবি।
-- আম্মু



, তুমি এটা বলতে পারলে তুমি ছাড়া আর কে আছে আমার যে তোমাকে ছেড়ে আমি একটা অন্যে মেয়ের সাথে বাইরে ঘর বাঁধবো।
-- দেখ অভ্র মেয়েটা খুব ভালো, তোকে অনেক ভালোবাসবে।
আমি এবার রেগে সবার সামনে গিয়ে......
-- এই যে আপ্নারা সবাই উঠুন, আর প্লিজ এখান থেকে চলো যান বিয়ে হবে না। প্লিজ আমি হাত জোড় করছি।
তিশা এবার কান্না করতে করতে আমার পায়ে এসে পড়লো....
-- অভ্র প্লিজ এমন করো না। প্লিজ আমি তোমার পায়ে পড়ছি।
এবার আমার আম্মু আমাকে সড়িয়ে দিয়ে...
-- আপনারা দাঁড়ান, আজ এখানেই বিয়ে হবে দেখি এই ছেলের কতো বড়ো সাহস।
-- আম্মু আমি এই বিয়ে করতে পারবো না। প্লিজ আম্মু।
-- এই বিয়ে যদি সুষ্ঠ ভাবে না হয় তাহলে তুই আমার মরা মুখ দেখবি।
আমি এবার চুপ করে রইলাম।
আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো যাকে বলে জোরপূর্বক।
বাসররাত আজ আমাদের, আমি রুমে ঢুকতে চাইছি না কিন্তু আমাকে ঢুকতে হবে।
আমি এবার রুমে ঢুকে ওর সামনে বসলাম, ও আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে খুব মিটিমিটি করে হাসছে আমি কোনোরকম সাড়া না দিয়ে শুয়ে পড়লাম, মধ্যরাত্রিতে ওর শারীরিক চাহিদা মেটাতে হলো আমায় যেটা সব মেয়েরাই চাই, তাই আমি কোনো রকম দ্বিধা বোধ না করে চাহিদা মিটিয়ে দিলাম, একটু পড়েই ও চিৎকার করে উঠলো....
-- আহু আহউ আহু আহু। (তিশা)
আমি চমকে উঠে....
-- কি হলো?
-- এমন একটা বাসারে বাবা ছি ছি, গায়ের উপর কুটি পড়ছে।
আমি এবার রাগ না সামাল দিতে পেরে একটা থাপ্পড় মেরে....
-- এজন্যই তো আমি বলেছিলাম আমাকে বিয়ে না করতে, আপনার লাইফস্টাইল আমাদের মতো সমাজের সাথে মিল খাবে না। শুনলেন আমার কথা। এবার থেকে এখানেই থাকতে হবে নাহলে যেখানে খুশি চলে যাবেন।
তিশা খুব রেগে শুয়ে পড়লো......
সকালে উঠে তিশা চিৎকার করতে লাগলো আমি সামনে গিয়ে....
-- ফ্রেশ হবো টয়লেট কোথায়?(তিশা)
-- টয়লেট নেই? (আমি)
-- মানে?
-- মানে যা করতে হবে সব মাঠে।
তিশা রেগে আগুন হয়ে গেছে....
কোনোরকম খাওয়াদাওয়া সেরে কলেজে বেরিয়ে পড়লাম, বড়োলোকের মেয়ে গাড়ি নিয়ে বেরোলো আর আমি বাসে উঠলাম, সেটা দেখে আমি যেই বাসে ছিলাম তার সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে আমাকে ওর গাড়িতে তুলে নিলো, এবার আমরা কলেজে পৌছে গেলাম, আমরা এবার দূরে দূরে হাঁটতে লাগলাম, আমি সোজা ক্লাস রুমের দিকে চলে গেলাম, কোনোরকম খেয়াল না করে... এবার ক্লাস সেরে আমি একাই কলেজ ক্যাম্পাসে বসে আছি আর চারদিকে শুনতে পাচ্ছি....
-- এই ছেলেটাকে শেষ পর্যন্ত তিশার চাকর হতে হলো।
সবার মুখে এককথা। আমি এবার রেগে হনহন করে তিশাকে খুজতে লাগলাম, কিছু দূরে দেখি তিশা অনেক হাসাহাসি করছে... এবার আমি তাদের কাছেই যেতেই রিতা......
-- এই তিশা এসে গেছে তোর ভিখারি বর।
তিশা খুব হেসে....
-- রিতা ভিখারি না ও ডাবল ভিখারি।
-- তিশা ওর মতো ভিখারিকে তুই বিয়ে করতে গেলি কেন? তোর জন্য তো কতো বড়লোকের ছেলে মিলতো।
-- জ্বি মিলতো, তবে এর মতো মিলতো না, একে আমার পায়ের নীচে রাখলে এ সারাজীবন থাকবে মাথায় উঠার চেষ্টা করবে না।
আমি এবার রেগে....
-- তিশা আপনি আমাকে ব্যবহার করলেন।
-- জ্বি, ক্ষাত, যাকে বলে প্রতিশোধ।
-- আমি আপনার কি ক্ষতি করেছিলাম বলবেন এতোটুকু।
-- দেখতে চাস।
এবার চিৎকার করে তিশা...
-- hlw all gys, সবাই একটু এদিকে আসবেন।
একে একে সবাই এলো.....
এবার আমার দিকে আঙুল তুলে.....
-- এই ছেলেকে আমি বিয়ে করলাম কাল, আর আজ তাকে আমি ব্যবহার করবো, যাকে বলে ইউজ এন্ড থ্রো। ভিখারীর বাচ্ছা একটা।
আমি এবার রেগে ওর গালে চটাচট করে থাপ্পড় মেরে....
-- এই মেয়ে ভিখারি বলতে পারিস আমাকে কিন্তু আমার আব্বুকে না।
-- কেন রে তোর আব্বু কি লন্ডনে ভিক্ষা করে নাকি!
-- এই মেয়ে মুখ সামলে? আমার আব্বু আপনাদের মতো চুনোপুঁটি বড়োলোকদের পিছনে রাখে জায়গা পাবেন না তার কাছে।
আমি রেগে.... আর কিছু না বলে কান্না করতে করতে চলে গেলাম....
-- মানে। অভ্র এই অভ্র বলে যাও বলছি.....
গোটা কলেজ পুরাই স্তব্ধ হয়ে আছে, শুধুমাত্র পাশে মেন রোড থাকায় গাড়ির শব্দ আর পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে।
এবার আমি সোজা বাসায় চলে এলাম,,, এসে শুনি তিশাকে আম্মু খাবার দিতে গিয়েছিলো, ভালো খাবার না দেখে উলটে ফেলে দিয়েছে... আবার আমি খাবার নিয়ে ওর সামনে গেলাম....
খাবারের থালা এগিয়ে দিয়ে.....
-- এই নেন খেয়ে নেন। (আমি)
-- ওয়াক থু, এগুলা খাবার।(তিশা)
-- নিন খেয়ে নিন।
-- আমি খাবো না বলেছি তো।
-- খেয়ে নিন বলছিনা।
-- আমি না বলেছি তো,
এটা বলেই খাবারের থালা উল্টে ফেলে দিলো আমি এবার ওকে ওখান থেকে তুলে বাইরে টেনে এনে ফেলে দিলাম.....
-- এটা ভদ্র লোকের বাসা আপনার মতো অভদ্র মেয়ের থাকার জায়গা না। জানেন এতোটুকু খাবারের দাম কতো, এটা আমার আম্মুর ভাগের খাবার, আম্মু নিজে না খেয়ে আপনাকে খাওয়াতে পাঠালো আর আপনি সেটা ছুড়ে ফেলে দিলেন, তাও একবার না দুইবার।
আমি এবার রেগে তিশার সব কিছু এনে....
-- এই নেন আপনার সব জিনিস পত্র, যান বিদায় হয়ে যান আমার বাসা থেকে, আপনার মতো কলঙ্কিত মেয়ে আমার বাসায় থাকলে খুব খারাপ হবে।
আম্মু কোথা থেকে এসে.....
-- এই অভ্র তুই কাকে কি বলছিস?
আমি এবার আম্মুকে ধমক দিয়ে.....
-- তুমি চুপ করো যা হচ্ছে আজ শুধু তোমার জন্য, এবার যা করার আমাকে করতে দাও,
এবার তিশা উঠে....
-- তোদের মতো গরীবদের না আমি আমার পায়ের নীচে রাখি। সব ছেঁড়া কাপড় জামা পড়ে ঘুরে, দেখা আমাকে দেখ আমার এই জামাটারদাম ১৮০০০টাকা, তোরা তো কখনো ওই টাকাটাই এক সাথে দেখিসনি।
আমি এবার.....
-- আপনি চলে যান, আর ঘুরেও আমার বাসার দিকে আসবেন না।
-- তুই ভিখারীর বাচ্ছাকে আমি কলেজে দেখে নিবো।
আম্মু এসব দেখে কান্না করতে লাগলো....
-- যা হচ্ছে সব আমার জন্য, আমি আমার ছেলের জীবনটাকে নষ্ট করে দিলাম। ছি ছি ছি।
-- আম্মু এমন বলে না, কোনো আম্মুই কি চাই যে তার ছেলে সুখে না থাক, তোমার ছেলের ভাগ্যে না হয়য় সুখ ছিলো না, যে গেছে যেতে দাও না না যেতে চাইলে লাথি মেরে এগিয়ে দাও।
আম্মু এবার কান্না করতে লাগলো, একটু পরেই দেখি তিশার আব্বু আম্মু আমার বাসার সামনে এসে হাজির, এবার আমাকে উল্টাপাল্টা ভাবে দোষারূপ করছে সত্যটা না যাচাইই করে, আমি সব মাথা নিচু করে শুনছি। আমি এবার লক্ষ করলাম তিশার গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আর রাগে ফুঁসছে বুঝলাম প্রতিশোধ নিচ্ছে।
চলবে নাকি.............!
সাড়া পেলে আগামী পর্ব লেখার জন্য আগ্রহী হবো।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন