রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প - অহংকারী - মেয়ে (৭ম - পর্ব ).

রাতটা কোনোরকমে পার করালাম, সকালে চোখ খুলতেই দেখি তিশা পিচ্চিদের মতো আমার গায়ে পা তুলে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে, আমি এবার ওকে সরাতে চেষ্টা করলাম....

-- এই সরান,
-- উম,
এটা বলে আরো জোরে আমাকে জড়িয়ে ধরলো, আমি আর কোনোকিছু না করে তিশা যেমন আছে তেমনই থাকতে দিলাম, আমি ওর মুখের দিকে চেয়ে আছি আর ভাবছি, মেয়েরা এতো মায়াবী কিন্তু মনটা আগে খুব অহংকারী ছিলো কিন্তু আজ আমায় অনেক ভালোবাসে কারন কি? আমি এবার কিছু্ক্ষন ভাবার পর, তাতে আমার কি, তিশা তো চেঞ্জ হয়ে গেছে। এবার আমি তিশার ওই দুটি চোখের দিকে তাকাতেই আমি ফিদা, এতো সুন্দর টানা টানা চোখ পুরাই জোশ, কখনো এভাবে দেখিনি। আমি আর থাকতে না পেরে তিশার দেওয়া মোবাইলটার ক্যামেরা অন করলাম। কাল শিখিয়ে দিয়েছিলো, ওই ঘষে ঘষে অন করলাম তাও আবার টানা ১৫ মিনিট পর,
এবার আমি ওর মুখের একটা ফটো তুলতেই দেখি টর্চ লাইটের মতো জ্বলে উঠলো, আমি সেটা দেখে ভয়ে.....

Image may contain: 1 person

-- ওমা গো, এটা কি? (হাল্কা চিৎকার করে)
সঙ্গে সঙ্গে তিশা উঠে আমার মুখে হাত দিয়ে....
-- কি হলো কি হলো।
-- না না না কিছু না।
আমার মুখে ভয়ের আভাস দেখে তিশা মনে হয় খুব ভয় পেয়ে গেছে, দেখি ও এবার কান্না করতে শুরু করে দিলো....
-- কি হয়েছে বলবা তো নাকি!
-- না না কিছু না।
এবার আরো কান্না করতে শুরু করে দিলো...
-- ওই কি হয়েছে বলবা কিনা!
আমি ভয়ে মোবাইলটা ওর দিকে এগিয়ে দিলাম....
-- কাল আপনি যে শিখিয়ে দিয়েছিলেন ফটো তুলাটা, তাই আজ আপনার একটা ফটো তুলতে গিয়ে দেখি একটা টর্চ লাইটের মতো কি যেন জ্বলছে, মনে হয় মোবাইলটা বাস্ট হবে, ফেলে দেন ওটাকে।
আমার এবার ভয়ে থর থর করে কাঁপা শুরু হয়ে গেলো, আর আমি কেঁপেকেঁপে.....
-- আমি তার জন্যইই বলেছিলাম এই মোবাইল গুলা ভালো না। আজ এখন মোবাইলটা ফেটে যাবে। 😭😭😭😭😭
এই কথাগুলা শুনে তিশা হাসছে আর আমার বুকে কয়েকটা কিল ঘুষি মেরে......
-- কুত্তা, বিলাই, হারামি, পুরাই ভয়ে আমাকে শিউরে দিয়েছিলে তো। ক্ষাত একটা।
-- জ্বি ক্ষাত, আর এই ক্ষাতটাকেই তো এখন স্বামী বলছেন।
-- চুপ। ওটা মোবাইলের ফ্লাস ছিলো, কোনো টর্চ লাইট ছিলো আর ফেটে যাচ্ছিলো না।
-- না না আমি দেখেছি, বিশ্বাস করিনা আমি।
এবার আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আমার কপালে একটা চুমু খেয়ে....
-- পাগল একটা।
এটা বলে আমার বুকে মাথা লুকালো....
কিছুক্ষন পর আমি....
-- তিশা ছাড়ুন আমাকে...
-- না ছাড়বো না।
এটা বলে আমার হাতটাকে জড়িয়ে আমার বুকে আবার জোর করে মাথা রাখলো। শালা এক গরম আবার জড়িয়ে ধরে আছে পুরাই প্যারা😖
-- আরে ফ্রেশ হয়ে আসি তারপর না হয় আবার জড়িয়ে ধরবেন।
-- আচ্ছা।
এটা বলে আমি ফ্রেশ রুমের দিকে এগালাম, হঠাৎ আমার সামনে তিশা এসে.....
-- সকালে ঘুম থেকে উঠে কিসটা কে দেবে শুনি😡
রেগে কথাটা বললো....
-- কিস মানে?
-- উম ন্যাকা, তুমি জানো না স্বামী তার স্ত্রীকে সকালে উঠে একটা করে কিস দেয়। আবার অফিস থেকে আসার পরর।
-- কইই আমি তো কখনো কাউকে দিতে দেখিনি, আর আমি তো এখন অফিস যাইনা, আমি তো কলেজ যাই।
এবার তিশা রেগে আমার গলার দিকে হাত বাড়ালো...
-- তোকে না আজ আমি মেরেই ফেলবো, ভাগ্যিস তুই আমার বর। উম😡 লোক দেখাবে যে আমি আমার বৌকে কিস করছি দেখ। আর অফিস যাওনা তো কি হয়েছে কলেজ থেকে আসার পর দিতে পারবা তো। বেশি না আমার মাথা গরম করে আমাকে একটা কিস দিয়ে উদ্ধার করো।
-- কিস দিয়ে উদ্ধার করে কিভাবে শুনি😱😁
-- ওরে আল্লাহ, এই ক্ষাতটাকে নিয়ে আমি কিভাবে সংসার করবো, একটা গেঁয়ো।
আমি এবার মুচকি মুচকি হাসতে লাগলাম, আমি তো এতোক্ষন ওকে রাগাচ্ছিলাম.... এটা দেখতে পেয়ে তিশা আরো রেগে....
-- কুত্তার বাচ্ছা যা তোর কিস লাগবে না।
-- হু😒 আমিও দেওয়ার জন্য বসেই আছি।
এটা বলে আমি হাসতে হাসতে ফ্রেশ রুমের দিকে ঢুকে গেলাম, আমি ফ্রেশ হয়ে এলাম, আমার পর তিশা ঢুকলো ফ্রেশ রুমে। আমি এবার আমার বই গুলো আমার ব্যাগে ভরতে লাগলাম, তিশা চিৎকার করে....
-- অভ্র অভ্র অভ্র এই অভ্র...
আমি এবার ফ্রেশ রুমের কাছে গিয়ে....
-- কি হলো চিৎকার করছেন কেন?
-- ভিতরে আসো।
-- কিহহহহহহহহহ
-- জ্বি ভিতরে আসো।
-- না আমি যাবো না।
এবার ও দরজার পাশে এসে আমার হাতটা টেনে....
-- ওই আসো তো।
আমি ভিতরে ঢুকতেই 🙈🙈🙈🙈
উইইইই মা,,,🙈🙊🙈🙊🙈🙊
এবার ও তোয়ালে পড়ে....
-- ব্রাশ করি দুজনে আজ চলো।
-- আমার তো ব্রাশ করা হয়ে গেছে।
-- না, আবার করতে হবে তোমায়।
-- আমি আর করবো না।
এবার আমার পিঠে চেপে....
-- চলো আয়নার সামনে....
উফ আল্লাহ মেয়েটা পাগল পুরাই...
এবার আমি আয়নার সামনে নিয়ে গেলাম। এবার তিশা নিজে টুথপেস্ট লাগিয়ে.....
-- আজ আমি তোমাকে ব্রাশ করে দেবো আর আমাকে তুমি।
আমি তো শুনেই অবাক। ভাভা গো😱😲
-- না না আমি পারবো না।
শালা কি লজ্জা লাগছে মাইরি😁
-- ওই করবা কিনা।
এবার তিশা আমার মুখের দিকে ব্রাশ বাড়িয়ে....
-- ওই মুখ খুলো না।
আমি এবার আমার মুখ চেপে...
-- না খুলবো না।
-- তবে রে ক্ষাত পোলা।
এবার আমার মুখটা ওর বামহাত দিয়ে ধরে জোর করে ব্রাশ ঢুকিয়ে দাঁতের এপাশ ওপাশ ব্রাশ চালাতে লাগলো, শালা এতো জোরে ব্রাশ করছে দাঁতের চোয়াল গুলা না ভেঙে গেলে হয়😫
-- ওই আমারটা কে করবে শুনি।
এবার আমি ওর মুখে ব্রাশ করাতে লাগলাম, আমি আয়নার দিকে তাকাতেই আমি লজ্জায় রাঙা হয়ে গেলাম, আর সেটা তিশা লক্ষ করলো আর আমার মাথাটা চুলকে....
-- ক্ষাত পোলাটা দেখি লজ্জা পেয়ে গেছে।
এটা বলার সাথে সাথে আমি লজ্জা আর থাকতে না পেরে চোখ মুখে হাল্কা পানির ছিটা মেরে মেরে বের হয়ে চলে এলাম।
ফ্রেশ রুম থেকে বেরিয়ে আবার বেসিন এর কাছে গিয়ে চোখ মুখ ভালো করে ধুয়ে নিলাম, শালা তারপর লক্ষ করলাম মুখের ভিতর রক্ত পড়ছে তাহলে ভাইয়ারা আপনারাই ভাবুন কতো জোরে ব্রাশ করেছে😫😫😫😫
এবার আমি ওখান থেকে এসে আমার সুইচওয়ালা মোবাইলটা নিয়ে সাপ গেমটা শুরু করে দিলাম...
এরই মধ্যে কখন তিশা রুমে এসে...
-- অভ্র এই অভ্র
-- জ্বি, বলেন.....
-- অভ্র আমাকে শাড়িটা পড়িয়ে দাও না।
বাবা গো যে মেয়ে জিন্স টপ ছাড়া অন্য কিছুর মুখ দেখতো না আজ সে শাড়ি পড়বে বলছে শুনেও বেশ খুশি লাগছে মনে।
-- আমি তো পারি না পড়াতে।
-- পারিনা বললে শুনবো না আমি না তোমার বৌ, পড়াতেই হবে।
-- আচ্ছা আপনি নিজেই পড়ে নিন না।
-- আমি পরবো মানে😡😡
-- আচ্ছা আচ্ছা, পরিয়ে দিচ্ছি।
কি রাগ রে বাবা, এবার আমি শাড়ি পরিয়ে দিলাম, আমি এবার উঠে দাঁড়াতেই তিশা আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালো, তিশার ভেজা চুলে পানী টপটপ করে নীচে পড়ছে আর তিশার চুলে দেওয়া শাম্পুর গন্ধে আমাকে পুরাই মাতাল করে দিচ্ছে। তিশা এবার তাড়াতাড়ি করে চলে গেলো, আমি আবার বসেই রইলাম....
কিছুক্ষন পর তিশা আমাকে ডাকছে, আর বলছে...
-- কইই গো শুনছো ব্রেকফাস্ট করবে আসো।
আমি তো শুনেই অবাক কই গো আবার শুনছো😱😱😱
ওরে পিচ্চি পণ্ডিত তুইও কবে শুনবি😁, তবে এরকম অহংকারী মেয়েকে বিয়ে করিস না কারন তুই তো আবার কারোর রাগ সহ্য করতে পারিস না যে রাগ দেখায় উল্টে তার উপরই তুই রাগ দেখিয়ে দিস😁😂😆
এবার আমি নীচে গেলাম, ব্রেকফাস্ট করার সময় তিশার আম্মু আমাকে ইশারা করে.....
-- ধন্যবাদ বাবা তোমাকে।
আমি এবার হাত নেড়ে, তিশাকে না বুঝতে দিয়ে...
-- কেন?
তিশার মা এবার ইশারা করে...
-- আমার মেয়েটাকে বদলে দেওয়ার জন্য।
আমি এবার লজ্জায় মুখ নামিয়ে....
-- আম্মু আপনার মেয়ে নিজেই বদলে গেছে আমি বদলাইনি।
-- ঠিক আছে বাবা।
এটা বলে তিশার আম্মু এবার কিচেনের দিক চলে গেলো।
আমি ব্রেকফাস্ট সেরে রুমে এলাম, এবার কলেজে যেতে হবে তাই পিঠে ব্যাগ নিয়ে দরজার কাছে যেতেই দেখি তিশা দরজার দুইপাশে হাত দিয়ে....
-- কোথায় যাচ্ছো?
-- কেন কলেজে।
এবার আমার কলার ধরে...
-- বাসায় নতুন বৌ থাকতে কলেজ কিসের হুম। আজ কোনো কলেজ না।
-- আচ্ছা।
এবার আমি সোফায় বসে রইলাম আর দেখলাম তিশা ড্রেসিংটেবিল এর কাছে গিয়ে কি যেন গুছাতে লাগলো। আমি আর না ভেবে তিশার দেওয়া মোবাইলটা হাতে নিয়ে চালাবার চেষ্টা করতে লাগলাম, চেষ্টা করেও কিছুটা পারলাম, আরো কিছু জানার জন্য....
-- তিশা একটু এদিকে আসবেন।
তিশা এবার আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে....
-- কেন?
-- মোবাইলটা চালানোটা একটু শিখিয়ে দেবেন তাই বলছিলাম আপনি এলে ভালো হতো।
এবার আমার সামনে এসে শাড়ির খুঁটটা কোমড়ে গুঁজে দুটো হাত কোমড়ে রেখে তিশা রেগে আমার দিকে তাকিয়ে....
-- ওই এতো আপনি আপনি করছো কেন?
আমি ভয়ে...
-- না না না ত ত ত ত। মানে এমনি (আমি আমতাআমতা করে)
-- আজ থেকে তুমি বলে ডাকবা।
-- আচ্ছা, এখন বসুন। 🙊
-- এই কুত্তা আবার আপনি।
-- আচ্ছা আচ্ছা বসো আমার পাশে।
এবার হেসে হেসে আমার পাশে না বসে আমার কোলে বসলো। কি লজ্জা লাগছে ভাই🙈
-- এই পাশে বসতে বললাম তো কোলে না।
-- চুপ, আমি যেখানে খুশি বসবো।
-- উফ আল্লাহ আমি এতো ভারী জিনিস কোলে রাখতে পারছিনা।
-- হিহিহি তাই😁
-- জ্বি, পুরাই একটা কুমড়ো মনে হচ্ছে।
-- কিহহহহ😡😡, আমার মতো স্লিম ফিগারের মেয়েকে কুমড়ো বলছো। মেরে বালি চাপা দিয়ে দেবো।
-- আমি তো মারা যাবো তাহলে। আর তুমি গুন্ডি নাকি যে মেরে ফেলবে আমায়।
-- ও তাই তো, তাহলে মারবো না। আর আমি তোমার জন্য গুন্ডি বৌ সব হতে পারি।
-- তাই নাকি! ছাড়ুনন।
-- আবার😡😡😡😡😡😡
-- সরি সরি, মোবাইলটা একটু শিখিয়ে দাও এবার।
কিছুক্ষন আমার হাতের আঙুলটাকে নিয়ে মোবাইলের উপর টার্চ করাতে লাগলো আর একে একে স্কুল টিচারদের মতো আমাকে বুঝাতে লাগলো, আমি তো শালা কিছুই বুঝতেছিনা। আমি চুপচাপ শুনছি তিশা বকে যাওয়া মিষ্টি মিষ্টি কথাগুলাকে।
এবার তিশাও থেমে গেলো কিছুক্ষনের জন্য।
হঠাৎ আমার কানের কাছে ওর মুখে এনে....
-- এই ক্ষাত পোলা তোমায় না অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।
আমি তো ভাই নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিনা।
-- তাই।
-- জ্বি, এই ক্ষাত পোলা।
-- জ্বি।
-- শোনো না।
-- জ্বি বলো।
-- শোনো না...
-- জ্বি।
-- I love you...
উফ আল্লাহ এই কথাটা শোনার পর আমার কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে গেলো।
দেখি তিশা আর লজ্জায় থাকতে না পেরে রুমে থেকে ছুটে বের হয়ে গেলো।
চলবে নাকি.............!
সাড়া পেলে আগামী পর্ব লেখার জন্য আগ্রহী হবো।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন