- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আমি এবার কলেজ ক্যাম্পাস থেকে উঠে সোজা বাসায় মানে চলে এলাম, মানে তিশাদের বাসায়। রুমে এসে চুপচাপ বসে আছি, কিছুক্ষণ পর তিশার আম্মু রুমের বাইরে...
-- অভ্র বাবা আসতে পারি!
-- নিশ্চয় আম্মু, কেন আসতে পারেন না।
-- আচ্ছা।
এবার তিশার আম্মু এসে আমার পাশে বসে.....
-- আজ এতো তাড়াতাড়ি কলেজ থেকে চলে এলে?
-- জ্বি আম্মু শরীরটা একটু খারাপ।
-- ওহ আচ্ছা, তাহলে তোমার চোখ গুলা লাল কেন?
-- ককককককইইইই না তো। (আমি আমতাআমতা করে)
-- আম্মুর চোখে ধরা না দিয়ে যাওয়া যায় না।
-- সত্যি বলছি আম্মু শরীর কেমন একটা লাগছিলো তাই আমি চলে এলাম। আর আপনাদের মেয়ে কলেজে আছে।
-- একটা সত্যি কথা বলবে
-- জ্বি আম্মু বলো....
-- তিশা তোমায় খুব অপমান করেছে তাই না।
-- না না আম্মু, কি যে বলেন না
-- জ্বি এটাই সত্যি, আমার থেকে তুমি লুকাচ্ছো কিছু।
-- আম্মু তুমি শুধু শুধু চিন্তা করছো তেমন কিছু হয়নি। আম্মু আমার খুদা লাগছে চলেন খাবো।
আমার এতোটুকুও খুদা নেই তবুও তিশার আম্মুর কাছ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য এই বাহানাটা বানাতে হলো।
আমি খাবার খেয়ে এসে রুমে বই পড়তে লাগলাম, দেখি তিশার আব্বু এলো আমার রুমে.....
-- বাবা কি করো?
-- এই তো আব্বু একটু বই নিয়ে নাড়াচাড়া করছি। বসেন আব্বু।
-- আচ্ছা আচ্ছা।
দেখি তিশার আব্বুর দুটো হাত পিছনে কি যেন আমার থেকে লুকিয়ে রেখেছে।, এবার আমি....
-- আব্বু আপনার পিছনে কি?
-- না না না কিছু না তো।
-- আব্বু আপনি দেখাবেন কিনা!
-- আচ্ছা। আগে চোখ বন্ধ করো তারপর।
-- এতে আবার চোখ বন্ধ করার কি আছে।
-- ওহো বন্ধ করো না।
এবার আমি চোখ বন্ধ করতেই.....
-- সারপ্রাইজ........ 



আমি এবার চোখ খুলতেই দেখি একটা বড়ো দামি মোবাইল আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে, আমি না নিয়ে....
-- আব্বু এসব কি?
-- কি মানে তুমি আমার জামাই আর তোমাকে খুশি রাখার দায়িত্ব আমার আর আমার মেয়েকে শোধরানোর দায়িত্ব তোমার।
-- আব্বু সবই ঠিক আছে তবে আমি এই মোবাইল নিতে পারবো না, আমি অনেক খুশি আমার ওই সুইচওয়ালা মোবাইল নিয়ে।
-- দূর কি যে বলো না, তুমি আমার জামাই আর তোমার কাছে সুইচ ওয়ালা মোবাইল, তোমাকে তো স্মার্ট হতে হবে, তাহলে কলেজের সবাই তোমাকে ভালো চোখে দেখবে।
-- না আব্বু, আমি সবার চোখে এভাবেই থাকতে চাই। আমি মর্ডান সাজতে চাইনা।
-- বাবা আমি অতোসব জানি না আজ থেকে তুমি এই মোবাইলটা ব্যবহার করবে, নাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু।
তিশার আব্বু ভ্রু নাড়িয়ে আমার কাছ থেকে চলে গেলো।
আমি তো মোবাইলের নামটা শুনতেই কেমন হয়ে গেলাম.... Iph X, আমি আনবক্সিং করলাম, মোবাইলটা বের করে চারদিকটা লক্ষ করলাম কিন্তু সুইচ কোথায়। কিছু খুঁজে না পেয়ে মোবাইলটা রেখে দিলাম, তিশাও এরকম একটা মোবাইল ব্যবহার করে তাই ওর কাছ থেকে জেনে নেবো। আমি বইই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়লাম... বিকালে উঠে আমার রুমের পিছনে বারান্দায় গেলাম, আমার পাশেই তিশার রুম আর সেই রুমেও বারান্দা আছে, বাইরে ঝোড়ো হাওয়া বইছে, তিশার কফির কাপটা নিয়ে গাল হাত দিতে কি যেন ভাবছে, চুল গুলা পুরাই খোলা, হাওয়ায় চুল গুলা উড়ছে, পুরাই পরী দেখাচ্ছে, আমি তো দেখেই ক্রাশ খেয়ে গেলাম
। আমার এভাবে তাকানো দেখে.....
-- ওই এভাবে তাকাচ্ছো কেন? কখনো দেখোনি নাকি!
-- না না না না মানে,
শালা কি যে বলা যায়।
-- কি মানে?
-- না মানে...
আইডিয়া...
-- আমি একবার আপনার রুমে যেতে পারি।
-- আচ্ছা।
আমার তিশার রুমে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো ওই মোবাইলটা কিভাবে চালাই সেটা শেখার জন্য। আমি এবার ওর রুমে গিয়ে নক করলাম...
-- তিশা আসতে পারি...
-- জ্বি আসো
-- বসতে পারি।
-- জ্বি।
এবার আমি সোফায় বসতে যাবো ঠিক তখনি...
-- ভিখারির শখ দেখো না সোফায় বসবে, নীচে বস।
-- আচ্ছা।
আমি এবার নীচে বসে নতুন মোবাইলটা তিশার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতেই তিশা পুরাই চমকে গেলো....
-- তিশা এটা কিভাবে চালাতে হয় আমি তো জানি না তাই আপনি একটু শিখিয়ে দিলে ভালো হতো।
-- তুমি এই মোবাইল কোথায় পেলে বলো।
আমার দিকে খুব রাগি লুক দিয়ে....
-- না না আব্বু দিয়েছে।
-- ওহ আচ্ছা।
-- জ্বি, একটু শিখিয়ে দেবেন কিছু পারছিনা। আবার কাঁচ লাগানো সুইচ কোথায়?
এটা শুনে খুব হাসলো কিন্তু হাসার তো আমি কোনো কথা বলিনি....
-- হাহাহা, পাগল নাকি, iph এ সুইচ কোথায় পাবে, এটা তোমার সুইচওয়ালা মোবাইল না।
-- তা এতে তো শুধু কাঁচ, মাত্র তিনটা সুইচ দেখি, মাঝে একটা আর পাশে দুটো। কিন্তু লাল বাটন আর সবুজ বাটন কইই।
আমারর কথা গুলা শুনে তিশা পুরাই হেসে অস্থির, কি জানি কেন হাসছে....
এবার তিশা হেসে হেসে.....
-- এই ক্ষাত পোলা এখানে আসো।
-- কইই যাবো।
-- আমার পাশে।
-- না না আপনার শরীরে যদি টার্চ হয়ে যায়।
-- উফ মোবাইল চালানো শিখবা না।
এবার আমি ওর পাশে বসলাম.....
দেখি আমার সামনে মোবাইলটার কাঁচ হা দিতেই মোবাইলটা খুলে গেলো, উরি বাবা কি আজব ব্যাপার
দেখি কত বড়ো স্ক্রিন, পুরাই মনে হচ্ছে একটা টিভি, আমাদের গ্রামের মহেশ কাকার ছেলে মিনুর একমাত্র এরকম মোবাইল আছে তাও এর থেকে অনেক ছোটো।
-- এই দেখো অভ্র এভাবে চালাতে হয়,
আমার হাতের আঙুলটা নিয়ে কাঁচের উপর টার্চ করতে লাগলো বেশ ভালোই লাগছে, আমাকে দেখাতে লাগলো একে একে, আমি কিছুক্ষণ পর লক্ষ করলাম তিশার দুটো চোখের দিকে সত্যিই অপূর্ব , আমার দিকে এবার তিশা তাকিয়ে একটা ছোট্টো হাসি দিয়ে....
-- কি ব্যাপার?
-- না না কিছু না।
আমার এতো ভয় দেখে তিশা খুব হাসছে।
-- তুমি এমন কেন?
-- কেমন
-- এই যে আমাকে এতো ভয় পাও কেন?
-- ভয় পাওয়ার কারন একটাই আপনি বড়োলোক আর আমি গরীব।
-- জ্বি, তারজন্যই তো তোমার নাম ভিখারি।
এবার আমি পুরোপুরি কন্ট্রোলে না রাখতে পেরে তিশার সামনে চোখ দিয়ে পানী বেরিয়ে গেলো। এটা দেখে তিশা সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখ মুছে....
-- সরি সরি। ভুল হয়ে গেছে।
কি ব্যাপার আজ এতো রেস্পেক্ট।
-- না না ইটস ওকে, চোখে কিছু পড়ে গিয়েছিলো।
-- আমি সব বুঝি ঠিক আছে, তোমাকে আর এই কথাটা বলে কষ্ট দেবো না যতই হোক তুমি তো আমার স্বামী তাই।
সত্যিই এই কথাটা শুনে আমি অনেক ধন্য হলাম, আমার মুখে একটা খুব খুশির আভাস মিললো এতদিনে, দেখি তিশাও লজ্জা পেয়ে বাইরে চলে গেলো আমার হাতে মোবাইলটা ধরিয়ে, আমি এবার বেরিয়ে চলে এলাম, রুমে মোবাইলটা রেখে বাসার চারিদিক ঘুরতে লাগলাম দেখি তিশার আম্মু কিচেনে তাই ভাবলাম যাই একটু হেল্প করি গিয়ে......
-- আম্মু আসতে পারি।(আমি)
-- এই ছেলে আসার জন্য পারমিশন লাগে নাকি!
-- হাহাহা, লাগে তো আম্মু।
এবার ছুটে এসে তিশার আম্মুকে জড়িয়ে ধরে....
-- আম্মু আপনাদের মেয়ে চেঞ্জ হয়ে গেছে।
-- কি বলো?
-- জ্বি আম্মু মনে হয় আমি আপনাদেরকে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছি।
-- বুঝলাম না।
-- আজ তিশা আমাকে নিজের স্বামী বলে আমায় ডেকেছে।
-- জ্বি জানি। অনেকটা বদলে গেছে মেয়েটা, আজ যে মোবাইলটা তোমার আব্বু দিয়ে এলো না সেটা তিশাই এনে তোমার আব্বুকে দিয়ে পাঠিয়েছিলো।
-- কি বলো। কিছুই তো বুঝতেছিনা।
-- কিচ্ছু বোঝা লাগবে। এতো বড়ো ছেলে একটা এখনো কিছু বোঝে না।
-- হিহিহি।
-- পাজি জামাই
-- জ্বি শাশুম্মা
এবার রাতে ডিনার সেরে রুমে শুয়ে আছি দেখি তিশা আমার রুমে এলো তারপর দরজার ছিটকানি লাগিয়ে আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো....
আমি এবার তিশাকে একটু নাড়িয়ে....
-- এই কি হচ্ছে এটা, উঠুন বলছি।
-- উহুহু ঘুমাতে দাওনা।
এটা বলে আমাকে পুরাই সাপের মতো জড়িয়ে নিলো, আমি নড়তে পারছিনা।
আমাকে জড়িয়ে আমার বুকে মাথা গুজে শুয়ে আছে আর মাঝে মাঝে হাসছে, আমি তাকাতেই চোখ বন্ধ করে ঘুমাবার ভান করছে।
-- এই উঠেন, আমার বুকে লাগছে।
-- না উঠার কোনো প্রশ্নই উঠে না।
-- মানে কি?
-- আমি আমার স্বামীর বুকে শুয়ে আছি তাতে তোমার কি?
-- বুকটা কিন্তু আমার।
-- কে বলেছে শুনি।
এটা বলে আমার উপর চেপে আমার ঠোঁটটা কামড়ে দিলো, আম রেগে....
-- এই পাজি মেয়ে যান আপনার রুমে যান।
এবার মুখ বাকিয়ে অভিমান করে
-- না যাবো না, কি করার করে নাও।
-- উফ আল্লাহ।
আমি এবার যাহোক আমার বুক থেকে তিশার মাথা নামিয়ে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়লাম। আমারো খুব হাসি পাচ্ছে রে ভাই

কি হচ্ছে এসব। কিছুই বুঝতেছিনা।
চলবে নাকি...............?
সাড়া পেলে আগামী পর্ব লিখতে আগ্রহী হবো।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন